ইমেজ মুক্তার চাষ ব্যবস্থাপনা

চাষের পরিবেশঃ

চাষের পরিবেশের সাথে ঝিনুকের বৃদ্ধি এবং মুক্তা উৎপাদন সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। এজন্য মুক্তাচাষে কাঙ্খিত ফলাফল লাভের জন্য অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

পানির গভীরতাঃ

মুক্তা চাষের জন্য পুকুরের পানির গভীরতা ৫-৭ফুট (২-২.৫ মিটার) হলে ভাল হয়। গভীরতা এর কম বা বেশী হলে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা যায় না।

পানির তাপমাত্রাঃ

ঝিনুকের খাদ্য গ্রহন, বৃদ্ধি এবং নেকার নিসঃরণের ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পানির অনুকূল তাপমাত্রায় ঝিনুক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং নেকার নিঃসৃত হয়ে মুক্তা গঠিত হয়। মুক্তা চাষে পানির অনুকূল তাপমাত্রা হলো ২০-৩০ ডিগ্রি সে.।

পানির প্রবাহঃ

পুকুরের পানিতে সামান্য প্রবাহ সৃ্ষ্টি করা গেলে ঝিনুকের বৃদ্ধিসাধনে এবং মুক্তা উৎপাদনে সহায়ক হয়। তাই সম্ভব হলে প্যাডল হুইল ব্যবহার করে সামান্য প্রবাহের ব্যবস্থা করা যায়। মাসে একবার পুকুরের কিছু পরিমাণ পানি পরিবর্তন করলে ভাল হয়।

প্রাকৃতিক খাদ্যঃ

ঝিনুকের খাদ্য গ্রহন মূলতঃ পরোক্ষ। ফুলকার মাধ্যমে এরা পানিতে বিদ্যমান এলজি, ক্ষুদ্রাকার জুপ্লাঙ্কটন, অণুজীব অর্থাৎ ফাইটোপ্লাঙ্কটন ইত্যাদি জৈব দ্রব্য ছেঁকে ছেঁকে খায়। তাই পুকুরে যথেষ্ঠ পরিমাণ প্রাকৃতিক খাদ্য বিদ্যমান রাখার জন্য নিয়মমাফিক সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঝিনুক চাষের জন্য পানির উপযুক্ত রং হলো হলুদাভ সবুজ এবং স্বচ্ছতা ৩০ সে.মি.। এরূপ রং অথবা স্বচ্ছতা ৩০সে.মি. এর বেশী হলে নিম্ন বর্ণিত হারে সার প্রয়োগ করতে হবেঃ

সার         পরিমাণ প্রতি শংতাংশে

গোবর       ৪-৫ কেজি

ইউরিয়া     ১০০ গ্রাম

টিএসপি     ১০০ গ্রাম

ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে সাপ্তাহিক অথবা পাক্ষিকভাবেও সার প্রয়োগ করা যায়। সূর্যালোকিত দিনে সকাল ১০ঃ০০ টার মধ্যে গুলানো সার পুকুরের চারদিকে সমানভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। বৃষ্টির সময় বা মেঘলা দিনে এবং শীতকালে পানির তাপমাত্রা খুব কমে গেলে সার প্রয়োগ করা উচিত নয়।

পানির তাপমাত্রাঃ

ঝিনুকের খাদ্য গ্রহন, বৃদ্ধি এবং নেকার নিসঃরণের ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পানির অনুকূল তাপমাত্রায় ঝিনুক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং নেকার দ্রুত নিঃসৃত হয়ে মুক্তা গঠিত হয়। মুক্তা চাষে পানির অনুকূল তাপমাত্রা হলো ২০-৩০ ডিগ্রী সে.।

চাষের পুকুরে ঝিনুক স্থাপনঃ

ঝিনুক রাখার জন্য আড়াআড়িভাবে পুকুরে নাইলনের মোটা রশি টানাতে হবে। রশির দুই প্রান্ত বাঁশের খুটির সাথে বাঁধতে হবে। পরিমাণমত ফ্লোট বা ভাসমান যুক্ত রশিটিকে ভাসমান রাখতে হবে। ঝিনুক নেটের ব্যাগে রেখে দড়ির সাহা্য্যে নাইলনের সুতা দিয়ে এমনভাবে ঝুলিয়ে দিতে হবে যেন নেট ব্যাগে স্থাপিত ঝিনুক ১-১.৫ফিট পানির নীচে অবস্থান করে। প্রতিটি নেট ব্যাগে ২-৩টি করে ঝিনুক রাখতে হবে। দুটি নেট ব্যাগের মধ্যে দুরত্ব থাকবে ২৫-৩০ সে.মি. এবং দুইটি রশির মধ্যে দূরত্ব হবে ৪-৫ফুট। প্রতি শতাংশে ৮০-১০০টি ঝিনুক মজুদ করলে মুক্তার বৃদ্ধি ভাল হয়।

ইমেজ মুক্তা চাষের পুকুরে ঝিনুক স্থাপনঃ

অপারেশনকৃত ঝিনুককে মাছের পুকুরে মাচের সাথে একত্রে চাষ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ঝিনুকগুলো নেটের ব্যাগে রেখে দড়ির সাহায্যে পুকুরে ১-১.৫ ফুট গভীরতায় ঝুলিয়ে চাষ করতে হবে। এরপর মাছ চাষে যে ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করা হয় একই ব্যবস্থাপনা মুক্তা চাষে ব্যবহৃত হয়। মুক্তা চাষে বাড়তি কোন খাবারের প্রয়োজন নেই। পুকুরে কেবল নিয়মিত চুন ও সার প্রয়োগ করতে হবে। ১৫দিন পর পর অপারেশনকৃত ঝিনুকগুলো পরিস্কার করতে হবে।

তথ্য সূত্রঃ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহ।

Written By
More from uddoktahub

মুড়ি ও চিড়া তৈরি ব্যবসা

ভুমিকা প্রধান খাদ্য ভাতের পাশাপাশি মুড়ি ও চিড়া মুখরোচক খাবার হিসেবে বিবেচিত...
বিস্তারিত পড়ুন...

Leave a Reply