টমেটো বীজ উৎপাদন প্রণালী

রোগিং: পাতার রং, আকার, আকৃতি, গাছের উচ্চতা, ফলের রং, আকার, আকৃতি, ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে কোন গাছ ভিন্নতর মনে হলে তা উঠিয়ে ফেলতে হবে। রোগাক্রান্ত গাছ দেখা মাত্রই সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলতে হবে। টমেটো বীজ ফসলের মাঠ কমপক্ষে ৩ বার পরিদর্শন করতে হবে। ফুল আসার আগে প্রথম পরিদর্শন, ফুল আসা ও ফল ধরার সময় দ্বিতীয় পরিদর্শন এবং ফল পরিপক্ক হওয়ার সময় তৃতীয় পরিদর্শন করতে হয়।



পরাগায়নঃ
 টমেটো একটি স্বপরাগায়িত ফসল হলে ২-৫% পরপরাগায়ন ঘটে থাকে। বীজ ফসলের জমি অন্য জাতের জমি থেকে ৫০ মিটার দুরত্ব রাখলে বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদন হবে।

বীজ ফল চিহ্নিতকরণ ও সংগ্রহঃ রোগাক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত বা পঁচা ফল বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সুস্থ স্বাভাবিক ফল বীজের জন্য বাছাই করে আলাদাভাবে সংগ্রহ করতে হবে। ফলের রং গাঢ় লাল হলেই ফল সংগ্রহ করা উচিত। অতপর সংগ্রহকৃত ফলগুলো ২-৩ দিন রেখে দিতে হয়।

বীজ সংগ্রহ ও শুকানোঃ
 বাছাইকৃত ফলগুলো, আড়াআড়িভাবে কেটে মাটি অথবা প্লাষ্টিক পাত্রের উপর হাত দিয়ে চেপে বীজ বের করে ২০-২১ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ২৪-৩৬ ঘন্টা ফারমেনটেশনে রাখতে হবে। এ সময়ে মাঝে মাঝে বীজ নাড়াচাড়া করতে হবে যাতে বীজগুলো সহজে ফলের আঠালো অংশ থেকে আলাদা হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের পরে বীজগুলো বারবার পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ভাসমান বীজ বাতিল করতে হবে। বীজ ভালোভাবে ধোয়ার পর প্রথমে ছায়ায় পরে ক্রমান্বয়ে প্রখর রৌদ্রে অধিক্ষণ শুকিয়ে বীজের আর্দ্রতা ৮% এ নামিয়ে আনতে হবে।

বীজ ফলনঃ  হেক্টর প্রতি ১৫০-১৬০ কেজি (৬০০-৬৪০ গ্রাম/শতক) পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

টমেটো শুধু বাংলাদেশের নয় সারা বিশ্বে সবজি হিসেবে সমাদৃত। টমেটো একটি শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীষ্মকালীন জাতের টমেটোও উদ্ভাবিত হয়েছে। উপযুক্ত পরিচর্যার টমেটো অধিক ফলন দিয়ে থাকে তাই উচ্চ ফলনশীল জাত নির্বাচন করে চাষ করলে দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরে বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

Written By
More from uddoktahub

সফল সফটওয়্যার কোম্পানির কর্ম পরিবেশ

মে দিবস, সারা পৃথিবীতে এই দিবসটি শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়।...
বিস্তারিত পড়ুন...

Leave a Reply