নতুন ব্যবসা শুরু করার আগে জেনে নিন করণীয় কাজগুলো

আপনি যদি সিধান্ত নিয়ে থাকেন আপনি ব্যবসা শুরু করবেন – আপনাকে অভিনন্দন! তবে, শুরুটা হবে আপনার জন্য অনেক কঠিন এবং অনেক পরিশ্রমের ব্যাপার। কিন্তু আপনি যদি সঠিক প্লান এবং সঠিকভাবে আপনার পরিশ্রম কে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আপনি ব্যবসার সাফল্য দেখবেন। দেখবেন অনেকেই অনেক কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে ব্যবসা করতে নামেন। কিন্তু সঠিক প্ল্যান এর অভাবে সফলতা পায়না। কিভাবে সেই সঠিক প্ল্যান করে আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারেন তার কিছু ধারনা দিবো।

১.ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুনঃ একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটি নতুন পণ্য যোগ করা এবং একটি অলাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নতুন পণ্য যোগ করার তুলনায় অনেক সহজ। এমন পণ্য এবং সেবা যোগ করুন যা আপনার বিদ্যমান সেবার পরিপূরক। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনি যদি ক্রেতা হন তবে কি আপনি আপনার এই সেবা বা পণ্য টি কিনবেন? একটু পরিসংখ্যান করুন, এই পণ্য বা সেবার পিছনে আপনার ব্যয় কত? একজন ক্রেতা কি সর্বচ্ছ মূল্য দিবে যাতে আপনি মুনাফা করতে পারেন?

২. অর্থ জোগাড় করুনঃ নতুন ব্যবসা বাজারে প্রবেশ করতে আপনার ধারনার চেয়ে ও বেশী সময় নেয়। আপনি জানেন আপনি কি ধরনের ব্যবসায়ের পরিকল্পনা করেছেন এবং তাতে কি পরিমাণ মূলধন লাগবে। এছাড়া প্রথম বছর আপনার ব্যক্তিগত খরচ কোথা থেকে আসবে তা জানুন। এমন যেনো না হয় যে, আপনি ব্যবসা শুরু করলেন এবং পরে চিন্তাগ্রস্থ হলেন যে আমার এই টাকা কোথা থেকে আসবে। সুতরাং সকল আর্থিক উৎস সম্পর্কে জানুন।

৩. ব্যবসার জন্য উপযুক্ত জায়গা প্রস্তুত করুনঃ আপনাকে ব্যবসার জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারন করতে হবে। আপনি কি ব্যবসা করতে যাচ্ছেন ওই ব্যবসার জন্য আপনার আশে পাশের পরিবেশ পারফেক্ট কিনা। যেমন বসুন্ধরা সিটিতে ৮ম তলায় সব ফুড এর দোকান এখন এর মধ্যে কেউ যদি চশমার দোকান নিয়ে বসে, তা চলবে না। এরকম আপনি আপনার ব্যবসার জন্য উপযুক্ত জায়গা এবং উপযুক্ত পরিবেশ নির্ধারন করুন। যাতে আপনার কাষ্টমার এবং আপনার কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ পায়। আপনি ইচ্ছে করলে এটার জন্য আপনার ব্যবসা রিলেটেড ব্যাক্তিদের সাথে পরামর্শ করে নিতে পারেন। খুব তাড়াতাড়ি অনেক বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আপনার ব্যবসাকে ধ্বংস করতে বা বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

৪. বৈধ কাগজপত্রঃ ব্যবসা শুরু করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন), মূল্য সংযোজন কর(মূসক বা ভ্যাট) নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরির প্রয়োজন হতে পারে। এর জন্যও নির্দিষ্ট পরিমাণ একটা টাকা খরচ হবে। অঞ্চল ভেদে এ খরচের তারতম্য হতে পারে। যেকোনো ব্যবসা শুরুর আগে কি কি কাগজপত্র লাগবে? এবং তার জন্য কত খরচ হতে পারে সেটা আগেই জেনে নিতে হবে।

৫. ব্যবসায়ের জন্য নাম ঠিক করুনঃ ব্যবসায়ের নাম ঠিক করার জন্য আপনার পণ্য বা সেবার গ্রাহক কারা, এই কথাটি মাথায় রাখুন। অন্য কোম্পানির নাম নকল করে নামকরণ করবেন না। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশান ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত হন যে আপনার বাছাইকৃত নামটি ইতোমধ্যে অন্য কোন কোম্পানি রেজিস্টার করেছে কিনা। আপনার ব্যবসায়ের নামের সাথে মিল রেখে একটি ডমেইন নাম রেজিস্টার করুন। আপনি যদি ফ্রি ড্মেইন রেজিস্ট্রেশান করেন তবে এমনটি মনে হতে পারে যে, হয়ত আপনার ব্যবসাটি সত্যিকারে ব্যবসা না অথবা আপনি দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসা করতে চান না । এছাড়া ফ্রি ডমেইন সাইটগুলো মানুষের কাছে অতটা বিশ্বাসযোগ্য না।

৬. একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুনঃ আপনার টার্গেট ক্রেতারা যদি শুধু পাড়া বা মহল্লার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, ব্যবসার ব্যাপ্তি বিস্তৃত হলে তাহলে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন। আজকাল খুব কম খরচে ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। আর যদি অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার চিন্তা-ভাবনা করে থাকেন তাহলে আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধব একটি ওয়েবসাইট আপনার জন্য খুবই উপযোগী।

৭. বিজনেস কার্ড অর্ডার করুনঃ নতুন ব্যবসার প্রতিষ্ঠাতা আপনাকে অনেক বেশি মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। পরিচিত – অপরিচিত সকলকে জানাতে হবে আপনি এই ব্যবসায় আছেন। এজন্য বেশি করে বিজনেস কার্ড অর্ডার করুন। এটা আপনার জন্য সস্তা এবং যদি পরিবর্তন করতে হয় তবে পরিবর্তন করে পুনরায় অর্ডার করতে পারবেন। এটা আপনার পেশাদারিত্বের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা আনবে।

৮. ব্যবসায়িক হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি স্থাপন করুনঃ আরেকটু গুছিয়ে কাজ করতে চাইলে, আপনার ব্যবসার সাথে সংযুক্ত করে একটি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি স্থাপন করতে পারেন। বাজারে অনেক হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার আছে , আপনার ব্যবসার সাথে মিল রেখে একটি হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি নির্বাচন করুন, ইচ্ছা করলে ইআরপি সফটওয়্যার ও ব্যবহার করতে পারেন।

৯. নিয়ম কানুন প্রতিষ্ঠা করুনঃ আপনার অফিস বা কাজের নিজস্ব নিয়ম কানুন, সময়, কর্মচারী থাকলে তাদের দায়িত্ব , সুযোগ সুবিধা সবকিছু প্রতিষ্ঠা করুন। প্রথম থেকেই যদি নিয়মের মধ্যে চলা যায় তবে ধীরে ধীরে তা উন্নত করা যাবে। সকলের উপর সদয় থাকুন, নিজের উপর দায়িত্ব নিবেন। প্রথম থেকেই পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি করুন।

১০. আপনার পণ্য , বাজারজাত ও বিক্রির কৌশলের উপর নজর রাখুনঃ যতশিগ্রই আপনি আপনার বাজার সম্পর্কে জানবেন, আপনি আপনার গ্রাহকের মতামত নিন। প্রতিটি সেবা ও পণ্যকে যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে পণ্য , বাজারিকরন ও বিক্রির কৌশলের পরিমার্জন করুন।

১১. গ্রাহক সেবা উন্নত করুনঃ আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আমরা গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। আমরা গ্রাহক দের কে তাদের চাহিদা মত সাপোর্ট দিতে পারি না। আপনার ব্যবসা বৃদ্ধি করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল আপনি যা করেন তাতে সবচেয়ে ভাল দিক গুলো বের করা। এবং আপনার কাজের উপর শতভাগ আত্মবিশ্বাস থাকা। আগামী বছরের জন্য উন্নত গ্রাহক সেবা লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, এবং দেখুন আপনার লক্ষ্যে কি কি সমস্যা থাকতে পারে, এবং সেগুলো পর্যলোচনা করে তার থেকে উত্তরণের উপায় বের করুন। আমরা আপনাকে বাজি ধরে বলতে পারি আপনার পুরানো গ্রাহকরা আবারও ফিরে আসবে । একটা কথা বিশ্বাস করবেন কাষ্টমার খুশি করাই নতুন ক্লায়েন্টদের আকৃষ্ট করার জন্য আপনার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

১২. নিয়মিত এক্টিভ থাকুন সোস্যাল মিডিয়াতেঃ আপনার একটি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে আপনাকে নিয়মিত মানুষের সাথে কথা বলা অর্থাৎ যোগাযোগের যে ব্যাপার থাকে এজন্য আপনাকে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ সাইট গুলোতে এক্টিভ থাকতে হবে। যেমন, আপনি কোন সার্ভিস এর অফার করলেন বা আপনার কোন পন্যর জন্য মার্কেটিং করলেন এখন কোন ক্লাইন্ট আপনাকে সার্ভিস এর জন্য বা পন্য কেনার জন্য নক দিল আপনাকে পেলনা । তখন সে আপনার রিপ্লাই এর জন্য অপেক্ষা করবে না । সেক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা প্রসার হবে না। এবং ব্যবসাতে সফল হতে পারবেন না।

১৩. পরামর্শকের সাহায্য নিনঃ আপনি যে ব্যবসা করেন সে ক্ষেত্রে সফল এমন কেউ বা একজন পেশাধারী পরামর্শকের সাহায্য নিন। এমন কেউ যে সত্যিকারে আপনার সফলতা চায় ও আপনার জন্য যার সময় আছে। পরামর্শের ফি ও অন্যান্য শর্তাবলী আগে থেকেই আলোচনা করে নিন।

পরিশেষে, নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা শুরু করুন। এবং আপনার ক্ষুদ্র ব্যবসার উপর আস্থা রাখুন । বড় স্বপ্ন দেখুন । স্বপ্ন নির্ধারন করে দৌড়াতে থাকুন একদিন সফল হবেন ই, ইনশাল্লাহ ।

Written By
More from uddoktahub

কাপড় এবং কাগজের শপিং ব্যাগ তৈরি

সম্ভাব্য পুঁজি:  ৫০০০০ টাকা থেকে ১০০০০০ টাকা পর্যন্ত সম্ভাব্য লাভ:     মাসে...
বিস্তারিত পড়ুন...