বিনিয়গ করতে পারেন মুদি দোকানে

সম্ভাব্য পুঁজি:
৫০০০০০ টাকা থেকে ১০০০০০০ টাকা পর্যন্ত
সম্ভাব্য লাভ:
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুদি দোকানগুলোতে শতকরা ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভ করা সম্ভব। মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সহজেই লাভ করা সম্ভব।
যা প্রয়োজন:
চাল, ডাল, তেল, লবন, মসলা, কসমেটিকস, কাগজ-কলম, চকলেট, চাটনি, বিস্কুট, কেরোসিনসহ যাবতীয় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা যায় মুদি দোকানে। যে ধরনের পণ্য ওই এলাকার মানুষের প্রয়োজন তা বিবেচনা করে মুদি দোকানে সব ধরনের পণ্যই বিক্রির জন্য রাখা যায়। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে মুদি দোকানে মোবাইল ফোনে টক টাইম রিচার্জ করার ব্যবস্থাও রাখা সম্ভব। এতে বেশ ভালোই লাভ।
প্রস্তুত প্রণালি:
লোকসমাগম বেশি হয় এমন জায়গাতে মুদি দোকান করা উত্তম। নিজস্ব জমি বা ঘর না থাকলে দোকান ভাড়া নিতে পারেন। দোকান ছাড়াও প্রয়োজন পরিমাপ করার বাটখারা।  দোকানের বাইরে ভোক্তাদের বসার জায়গা করতে পারলে ভালো। চাহিদা অনুযায়ী সকল বিক্রিযোগ্য পণ্য রাখতে হবে। সাধারণত নিকটবর্তী বাজার থেকে মহাজনের সাথে চুক্তি করে পাইকারী দরে পণ্য কিনলে লাভ বেশি হবে। মুদি দোকানের ভোক্তা সব ধরনের মানুষ। জনবহুল এলাকায় মুদি দোকান গড়ে ওঠে বলে এর ভোক্তার অভাব হয়না। যত বিক্রি তত লাভই হলো মুদি দোকানের মূলমন্ত্র।

কেস স্টাডি:
মেধা আর শ্রমে সচ্ছল জীবন
সংসারে অভাবের কারণে যশোর জেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের রমেছা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। সে সময় তার এক বছরের মেয়ে কোহিনূরও তার পাশে থাকতেন। সে সময় একটু একটু করে দাঁড়াতে পারে কোহিনূর। একদিন অন্যের বাড়িতে মা রমেছা কাজ করতে গেলে সেখানে চুলার মধ্যে পড়ে আগুনে দগ্ধ হয় কোহিনূরের সারা শরীর। এমনভাবে দগ্ধ হয়ে যায় যে, কোহিনূরের মুখ দেখে সবাই ভয় পায়। টাকার অভাবে ঠিক মতো চিকিৎসা হয় না। ভাগ্যক্রমে কোহিনূর বেঁচে যান কিন্তু তার শরীর হয়ে যায় ক্ষতবিক্ষত। ঠিকমতো হাঁটা-চলাও করতে পারেন না। কোহিনূরের ছোট আরও তিনটি ভাই-বোন হয়। আগুনে পুড়ে শ্রীহীন হওয়ায় কোহিনূরের প্রতি শুরু হয় অনাদর, অবহেলা।
ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে কোহিনূর বড় হতে থাকেন। তার বয়স যখন ৫ বছর তখন সে নিজের উৎসাহে স্কুলে যান। কিন্তু বেশি দিন স্কুলে যাওয়া তার হলো না। সংসারে অভাব তাই তার পেছনে বাড়তি খরচ করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয় না। ২০০৬ সালে বিনামূল্যে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের কসমেটিকস সার্জারি করা হয় খুলনার একটি হাসপাতালে। সেখানে কোহিনূর চিকিৎসা নেন। কিন্তু খুব একটা উন্নতি হয়নি। এভাবে কেটে যায় তার ১৯টি বছর। কোহিনূর জানান, ২০০৮ সালে কোহিনূর ঊষার সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুসমাজ ফাউন্ডেশনের নূপুর দলের সদস্য হন। ২০০৯ সালে গ্রাউরি প্রকল্পের ‘নারী-পুরুষ সম্পর্ক : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি’ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু প্রশিক্ষণের আগে তার অপারেশন থাকায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তী পর্যায়ে তিনি দলীয় সভা এবং উঠান বৈঠকগুলোতে অংশগ্রহণ করেন। এসব সভা এবং উঠান বৈঠকে নারীর অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। আলোচিত বিষয়গুলো তার ভাবনা জগতকে নাড়া দেয়। চিন্তা করেন, ‘সারা শরীর পুড়ে গেছে তো কি হয়েছে? আমার হাত যখন ভালো আছে আমাকে কিছু একটা করে খেতে হবে।’ তিনি নূপুর দলের সভানেত্রী খায়রুন নেসার সহযোগিতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাসিক সভায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। এসব সভা থেকে নারীর অধিকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো ভালোভাবে জানতে পারেন। এখান থেকে নিজের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে তিনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন
২০১০ সালে সুসমাজ ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী কিশোর-কিশোরীদের ৩ মাসের টেইলারিং প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করে। কোহিনূর এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে সুসমাজ ফাউন্ডেশন থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি নতুন সেলাই মেশিন কেনেন। শুরু করেন দর্জির কাজ। এতে তার মাসে আয় হয় হাজার-বারোশ’ টাকা। নিজের উপার্জিত টাকা বাবার সংসারে দিতে পেরে কোহিনূর অত্যন্ত আনন্দিত হয়। তার উপার্জিত টাকা ভাইবোনের  লেখাপড়ার জন্য খরচ হয়। এভাবে চলে কয়েক মাস।

২০১১ সালে সুসমাজ ফাউন্ডেশন আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘নারী-পুরুষ সম্পর্ক : ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি’ প্রশিক্ষণের রিফ্রেশার কোর্সে অংশগ্রহণ করেন কোহিনূর। এ প্রশিক্ষণ তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। প্রশিক্ষণ পেয়ে আরও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার আয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে। কোহিনূর এবং তার বাবার আয়ে খুব ভালোভাবেই চলতে থাকে তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ করে তার বাবা মারা যান। দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে বাবার মুদি দোকানের ভার নেন কোহিনূর। দর্জির কাজের পাশাপাশি তিনি এখন নাভারন বাজার হাসপাতাল মোড়ে মুদি দোকান চালাচ্ছেন। পুরো পরিবারের দায়িত্ব এখন তার ওপর। পোড়া শরীর, সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারে না বলে মানুষ তাকে এক সময় অনেক অবহেলা করেছে। কোহিনূর বলেন, ‘নিজের চেষ্টা থাকলে আমার মতো মানুষ সুস্থ মানুষের মতো সব কাজ করতে পারে। পরিবারের সব দায়িত্ব বহন করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস। আর এটা আমি পেয়েছি গ্রাউরি প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।’
২০১১ সালের জুলাই মাসে সুসমাজ ফাউন্ডেশন নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এক সম্মেলন আয়োজন করে। তার সাফল্যের কাহিনী শুনে সম্মেলনে উপস্থিত শার্শা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম তাকে স্বল্প সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। কোহিনূর প্রতিশ্রুত ১০ হাজার টাকা পেয়ে দোকানের কাজে লাগান। বর্তমানে তার পুঁজি ৩০ হাজার টাকা। দর্জির কাজ এবং মুদি দোকান থেকে তার মাসিক আয় ৮ হাজার টাকা। ঋণের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি কোহিনূর নিজের নামে মাসিক হিসাবে ১০০ টাকার ডিপিএস চালান।
প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা কোহিনূরের সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। তিনি বিয়ে করেছেন কিছু দিন আগে। স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কোহিনূর এখন বাবার বাড়িতে থেকে নিজের সংসারের পাশাপাশি মা ও তিন ভাইবোনের পুরো দায়িত্ব বহন করছেন।

তথ্য:
তথ্য আপা প্রকল্প

Written By
More from uddoktahub

কিভাবে ড্রাগ লাইসেন্স করবেন?

ওষুধের দোকান খুলে বৈধভাবে ওষুধের ব্যবসা করতে চাইলে ড্রাগ লাইসেন্স নেয়া জরুরি।...
বিস্তারিত পড়ুন...

Leave a Reply