চিংড়ির খোসা রপ্তানী !!!

রপ্তানীর বাজারে নতুন যদি কেউ কিছু করতে চান তবে এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারেন। খুবই সহজলভ্য এই জিনিস। চিংড়ি রপ্তানীকারকরা এটা ফেলে দেন (wastage)। আপনি সেই সব ফ্যাক্টরিগুলো থেকে এই কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারেন।

চায়না সহ আরো অনেক দেশেই এই জিনিষের প্রচুর চাহিদা আছে। বিশেষত চায়নার চাহিদা মত এই দেশ থেকে পর্যাপ্ত গুনগত মান সম্পন্ন এই জিনিষ পাঠাতে পারছে না বলে অনেক চাইনিজ কোম্পানী নিজের লোককেই এই দেশে পাঠিয়ে মাসের পর মাস ধরে বসিয়ে কাজ করাচ্ছে।

চিংড়ির খোসা রপ্তানীর জন্যে আপনাকে তেমন খুব বেশী অভিজ্ঞ হতে হবে না। তেমন কোন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন নেই। শুধু সৎ থেকে কোন রকম ভেজাল না মিশিয়ে রপ্তানী করলেই আপনি একই বায়ার এর সাড়া বছর ধরে অবিরাম অর্ডার পাবেন।

তবে আপনাকে রপ্তানী-র কমার্শিয়াল বিষয় সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা নিতে হবে। যেমন ঋনপত্র কি, কিভাবে ঋনপত্র পেতে হয় বা দিতে হয়, ঋনপত্রের শর্তাবলী কি বলে এই সব। আর জাহাজী করন কিভাবে করতে হয় এইসব বুঝতে হবে সাথে জানতে হবে একটি কন্টেইনার এ আপনি কি পরিমান মালামাল পাঠাতে বা রপ্তানী করতে পারবেন, কি উপায়ে আপনি আরো বেশী পরিমান মালামাল একই কন্টেইনারে রপ্তানী করতে পারেন এই সব। এর মধ্যে ঋনপত্র সংক্রান্ত বিষয়াবলী আপনি সহজেই আপনার ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আর জাহাজিকরনের বিষয়াবলী আপনার freight n forwarder কোম্পানীর কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।

চিংড়ির খোসা পাবেন কোথায়ঃ

বেশী পাওয়া যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার আর খুলনা। চিংড়ি রপ্তানী কারক প্রতিষ্ঠান যেখানে আছে সেসব অঞ্চলে এই কাঁচামাল পাওয়া যায় সহজেই।

এইসব অঞ্চল থেকে কাঁচামাল এনে আপনাকে একটি জায়গায় স্টোর করতে হবে। তার জন্যে আপনার একটি জায়গা দরকার। তবে মনে রাখবেন সেই জায়গা যেন বড় হয় এবং আবাসিক এলাকার বাইরে হয়। কেনো না এর বেশ ভালই দুর্গন্ধ আছে। আর বড় জায়গা বললাম এই কারনে, যা তে আপনি এই সব কাঁচামাল ধোয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। অপরিষ্কার মালামাল রপ্তানী করলে আপনার ক্রেতা বিরক্ত হবেন তাতে করে পরবর্তীতে আপনাকে আর অর্ডার নাও দিতে পারে। পরিষ্কার করে ধোয়ার পর আবার ভালো করে শুকোতে হবে নইলে ভেজা মাল এ পোকা হয়ে যেতে পারে। তা যদি হয় তবে বিদেশ এ আপনার মাল জাহাজ থেকেই খালাস হবে না। টাকার কথা তো পরে।

পরিবহনঃ

চিংড়ির খোসা শোলার মত হালকা হওয়ায় আপনি অনেক জিনিষ এক সাথে বহন করতে পারেন তবে অনেক জায়গা নেয়। ৫টন মানে কিন্তু অনেক অনেক জিনিস এবং প্রচুর জায়গা।

রপ্তানীর পরিমানঃ

দুই একবার রপ্তানীর পর আপনার কাছে মাসে অন্ততঃ ৫০-৬০মে-টন রপ্তানীর অর্ডার থাকবেই তখন আপনি কিভাবে ব্যবস্থা নেবেন? আমার জানামতে প্রতি কন্টেইনার এ ৭-৮ মে-টন এর বেশী ধরে না তবে আপনি চাপ দিয়ে বেল বানালে একই জায়গায় ২১-২৪ মে-টন পর্যন্ত ধরাতে পারবেন। কিন্তু এই ব্যপারে বায়ার এর সাথে আলোচনা করে নেয়া টা ভালো। কেন না, চাপ দিয়ে বেল বানাতে গেলে অনেক গুলো ভেঙ্গে যায়, গুড়ো হয়ে যায় তাই রপ্তানীর পর যা তে এই বিষয়ে কোন কথা না উঠে তার জন্যে আপনার ক্রেতা কে আগেই জানিয়ে রাখা ভালো। অনেক সময় ক্রেতা নিজেই এই পরামর্শ দেন তা তে করে তার ও আমদানী কর কমে যায়।

এখন মোটামুটি সব জেনে গেলেন এইবার নেমে পড়তে পারেন। সত্যিই বেশ সহজ তবে কষ্টকর দিকটা হলো যত সহজে আমি সব ধারনা দিলাম তত সহজে কাঁচামাল আপনি পাবেন না। তার জন্যে দালাল ধরতে হয়।এক একটি কারখানার নির্দিষ্ট কিছু লোকেই করে। অবশ্যই তাঁরা স্থানীয় মাস্তান টাইপের লোক। এদের টাকা দিয়েই আপনাকে সেইসব কাঁচামাল বের করতে হবে।

Written By
More from uddoktahub

গোবর থেকে সিএনজি

গোবর থেকে সিএন জি গবাদি পশুর গোবর ও মূত্র প্রক্রিয়াজাত করে এতদিন...
বিস্তারিত পড়ুন...

Leave a Reply