দুঃশ্চিন্তার বিষয় যখন মার্কেটিং

বিজনেস এবং মার্কেটিং প্ল্যান সম্পর্কে খুবই সাধারণ কিছু টিপস্, আশা করছি সময় নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করলে আপনার সমস্যার সমাধান আপনি নিজেই করতে পারবেন।

• যে কোন ব্যাবসাই শুরু করার আগেই যাচাই করে নিন, আপনার পণ্য কিংবা সেবা গ্রহণ করার জন্য বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা আছে কিনা । আপনি কি তৈরি করছেন তার থেকে গুরুত্ব দিন ভোক্তা আপনার কাছ থেকে কি চাইছে।

• আপনার প্রতিযোগী কে বা কারা আছেন এবং মার্কেটিং এর জন্য তারা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আপনার প্রতিযোগীরা মার্কেটিং এর জন্য যে পদ্ধতি অনুসরণ করছে, ভুলেও তাকে অনুকরন/অনুসরণ করতে যাবেন না, তাতে করে লাভের লাভ কিছুই হবে না বরং মার্কেটে তার গ্রহণযোগ্যাটা অনেকটাই বেড়ে যাবে এবং অযথা আপনার শ্রম আর অর্থ অপচয় হবে।

• মার্কেটিং প্ল্যান তৈরির সময় “ভোক্তার প্রয়োজন” কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন , সহজ কথায় বলতে গেলে, কেন এক জন বাক্তি আপনার পণ্যটি কিনবে কিংবা আপনার সেবাটি ব্যবহার করবে। যেমনঃ হতেই পারে, আপনি আপনার ই-কমার্স সাইটে ঝাড়ু বিক্রি করছেন। মার্কেটিং জন্য যদি একটা ঝাড়ুর ছবি দিয়ে ফেসবুক অ্যাড দিয়ে দেন তাহলে নেহাত আপনাকে হাস্যরসের পাত্র হতে হবে। কিন্তু এই ঝাড়ুই যদি “ গৃহস্থলীর নিত্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জমাদি” হিসেবে প্রচার করতে পারেন তবে অবশ্যই কিছু নিয়মিত ক্রেতা আপনি পেয়ে যাবেন যারা কিনা ঘরে বসেই এ ধরণের পণ্য কিনতে সাচ্ছন্দ বোধ করবে।

• মার্কেটিং প্ল্যান কখনওই দীর্ঘমেয়াদি করবেন না [এই পয়েন্টের সাথে অনেকেরই মতবিরোধ থাকতে পারে, আমি শুধু মাত্র আমার ব্যাক্তিগত মতবাদ প্রকাশ করছি।] প্রতি মুহূর্তেই আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সাথে আপনার প্ল্যানের সামঞ্জস্য না থাকলে সেটা কখনই সফলতা বয়ে আনবেনা। যেমন ধরুন আপনি ষ্ট্রীটফুড এর ব্যাবসা করেন এবং আপনার মূল প্রোডাক্ট চিকেন ফ্রাই, খুব মার্কেটিং করলেন এবং বেশ ভালো সারাও পেলেন। আরও বেশী সারা পাবার আসায় বড় ধরণের মার্কেটিং এর পরিকল্পনা করলেন কিন্তু হটাৎ করেই যদি বার্ডফ্লু রোগের আবির্ভাব হয় …. বিনিয়োগ তুলতেই তখন হিমশিম খেতে হবে।

• যেই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক ভাবে ব্যাবসা শুরু করেছেন, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই পণ্য/সেবার মান কিভাবে আরও উন্নত এবং ইউনিক করা যায় তা নিয়ে ভাবুন। কারণ তা যদি না করেন দেখবেন আপনার কনসেপ্ট অনুকরণ করেই ,কাল কেউ না কেউ আপনার চেয়েও শতগুণ ভালো কোন সার্ভিস লঞ্ছ করে ফেলেছেন এবং আপনার কাস্টোমার স্বার্থপরের মত আপনাকে ভুলে গিয়ে তার সেবা গ্রহণ করছে।

• “Customer Satisfaction” এ খুব বেশী গুরুত্ব দিন। ধরুন আপনি মোবাইল ফোন বিক্রেতা, আপনার দোকানে একটি সিম্ফনি সেটের যে মূল্য আপনার পাশের দোকানেও তাই। সেক্ষেত্রে কাস্টোমারকে একটা মেমোরি কার্ড ফ্রি দিয়ে দিন। অথবা দোকানে একটা ব্যানার লাগিয়ে দিন, শনিবারে যেকোনো হান্ডসেট কিনলে একটি ৮গিবি মেমোরি কার্ড ফ্রি, রবিবার এ একটি হান্ডসেট কিনলে “বিটস সোলো” এয়ার ফোন ফ্রি ইত্যাদি। আপনার কাস্টোমারই তার পরিচিতদের আপনার দোকানে রেফার করে দেবে, যা হবে বিনা খরছে খুবই সফল একটা মার্কেটিং।

Written By
More from uddoktahub

মার্কেটিং এ যেভুলগুলো আমরা করে থাকি

মার্কেটিং এ যে সূক্ষ্মভুলগুলো আমরা করে থাকি দেশের ই কমার্স সেক্টর প্রতিদিন...
বিস্তারিত পড়ুন...

Leave a Reply