ব্যাংক ঋণ পাবার উপায়!

ব্যাংক কিন্তু নিজেরাও তাদের প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন ব্যবসা করবেন বলে । তাই তারা এমন কোন স্থানে বা এমন কাউকে তারা তাদের টাকা দিবেন না যেখানে টাকাটা ফেরত আনতে তাদের অসুবিধা হয় । ফলে তারা ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের কোনভাবেই লোন দিতে আগ্রহী হয় না । আমার আপনার ব্যাংক থাকলে হয়তো আমরাও এ রকমভাবেই চিন্তা করতাম ।
তাহলে উপায় কি ? উপায় আছে একটাই সেটা হলো:
ব্যাংক ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের লোন দিতে চায় না এটা যেমন ঠিক তেমনি কিন্তু পুরনো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরকেও লোন দিতে চায় না যদি না তাদের উদ্যোগের মাঝে নিম্নোক্ত গুনাবলীগুলো প্রকাশ পায় :
ঋন আবেদন পত্রটি সঠিকভাবে পুরন করা হয়েছে কিনা ?
– ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার অনুপস্থিতীতে আপনার ঋন আবেদন পত্রটিই আপনার কথাগুলো বলবে এবং এর উপর ভিত্তি করেই আপনার ব্যাংক ঋন পাওয়া না পাওয়া ঠিক হবে । আপনার ঋন আবেদনটি যদি আপনার মনের সঠিক কথাটি বলতে না পারে তাহলে আপনার ঋন পাওয়া সম্ভাবনাটাও অনেক কমে যাবে । তাই ঋন আবেদন পত্রটি যেভাবে পুরন করতে বলা হয়েছে এবং যে সকল কাগজপত্র সাথে দিতে বলা হয়েছে তা অবশ্যই সাথে দিতে হবে । এক্ষেত্রে অনেক সময়ই উদ্যোক্তাদের তারাহুরা করতে দেখা যায়, যা মোটেও ঠিক না । এক্ষেত্রে যদি সকল কাগজপত্র আপনার কাছে না থাকে তাহলে সময় নিয়ে সমস্ত কাগজপত্র যোগার করে এবং যদি ঋন আবেদনের কোন অংশ বোঝা যাবে না যায় তাহলে ‍ভাল করে জেনে তারপর আপনার মুল্যবান ঋন আবেদনপত্রটি জমা দিন ।
ঋন আবেদন পত্রে অসত্য ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে কিনা ?
একটি ঋন আবেদন পত্র পাবার পর পরই ব্যাংক তার নিজস্ব নিয়মে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে থাকে । ব্যাংক যদি তাদের তথ্যে দেখতে পান যে, আপনার তথ্যের সাথে তাদের তথ্যের অমিল রয়েছে তাহলে আপনি আপনার কাঙ্খিত লোন পাবেনই না ভবিষ্যতেও আপনাকে কোন ব্যাংক লোন দেবে না । একটি উদাহরন দেই একজন উদ্যোক্তা তিনি একটি ব্যাংক লোন এর জন্য আবেদন করলেন জানুয়ারী মাসে, ফেব্রয়ারী মাসে তিনি বাসা বদল করে নতুন ঠিকানায় উঠলে কিন্তু ব্যাংক আবেদন এ তার নতুন ঠিকানাটি সংশোধন করলেন না ফেব্রয়ারী মাসের শেষের দিকে ব্যাংক তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখলেন যে উনি তার বতমান ঠিকানায় নেই অথচ ব্যাংক লোন পাওয়ার যাবতীয় গুনাবলী তার প্রতিষ্ঠান এর ছিল ।
প্রকল্প প্রস্তাবনার সাথে টাকার ঋন আবেদন এর টাকার পরিমানের মিল/ব্যবধান ঠিক আছে কিনা ?
আপনি যে ব্যাংক লোন এর জন্য আবেদন করেছেন তার সাথে আপনার প্রতিষ্ঠান এর হিসাব বিবরনীর একটি মিল থাকা চাই । প্রত্যেক ব্যাংকই তাদের ব্যাংক ঋন দেবার জন্য নিজস্ব কিছূ কৌশল অবলম্বন করে থাকে । যেমন ধরা যাক একটি ব্যাংক এর কৌশল হচ্ছে ঋন আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানে সারা বছর যতো টাকার লেনদেন করবে তার ৫০% টাকা তারা ব্যাংক ঋন হিসাবে ঋন আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে দিবে । এখন আপনার প্রতিষ্ঠান সারা বছরে ১০ লক্ষ টাকা লেনদেন করে, আপনি উপরে উল্লেখিত ব্যাংক এ ঋন আবেদন করে ৭ লক্ষ টাকা ঋন চাইলেন । এবার আপনিই বলুন আপনি উক্ত ব্যাংক থেকে ঋন পাবেন কিনা । এমন কিছু নিজস্ব কৌশল প্রত্যেক ব্যাংকেরই থাকে তাই আপনি যে ব্যাংক থেকে ঋন নিতে চাচ্ছেন সেই ব্যাংক এর কৌশল সমুহ যতোদুর সম্ভব ভাল করে জেনে নিন ।
ঋন আবেদন সংক্রান্ত সকল তথ্য জানা আছে ‍কিনা ?
প্রত্যেক ব্যাংকই ঋন দেবার ক্ষেত্রে একটি প্রক্রিয়া অনুসরন করে থাকে, সেই প্রক্রিয়াটি সম্পকে ভালভাবে জেনে নিন । এ রকম অনেক দৃষ্টান্ত দেখা যায় যে, একজন উদ্যোক্তা তার প্রয়োজনের সময়ে ঋন আবেদন করেছেন অথচ তিনি সময় মতো ঋন পাননি যখন তার নামে ঋন মÄর হয়েছে তখন আর তার ঋন এর টাকার প্রয়োজন নেই । আপনি যদি ঋন প্রদান প্রক্রিয়াটি সম্পকে জানেন তাহলে আপনি যেমন সময় মতো আপনার ঋন আবেদনটির খোজ খবর নিতে পারবেন তেমনি আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি আপনার কাঙ্খিত ঋনটি পাবেন কিনা ?
প্রতিষ্ঠানের নামে কোন ব্যাংক একাউন্ট আছে কিনা ?
ব্যাংক ঋণ পাবার জন্য মৌলিক ডকুমেন্ট এর মধ্যে এটি একটি । ব্যাংক আপনার প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিবরনী এবং সম্পদ এর হিসাব করে তারা দেখতে চাইবে যে, আপনি ব্যাংক এর ঋনটি যথাসময়ে ফেরত দিতে পারবেন কিনা ? আর এই হিসাব করার একটি মুল ডকুমেন্ট হলো আপনার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টস (হিসাব বিবরনী) । প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্ট না থাকলে ব্যাংক কখনই আপনাকে কোন ব্যাংক লোন দিতে আগ্রহী হবে না । শুধু প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক একাউন্ট থাকাই নয় নিয়মিত এটি ব্যবহার ( লেন দেন) করা হয় কিনা এটিও ব্যাংকের বিবেচ্য বিষয় । তাই যে কোন প্রতিষ্ঠান খুলবার সাথে সাথে ব্যাংক একাউন্ট খোলা এবং নিয়মিতভাবে সেই একাউন্টের মাধ্যমে লেন দেন করা অতিব জরুরী, যদি আপনার পরিকল্পনায় থাকে যে ভবিষ্যতে আপনি ব্যাংক থেকে ঋন গ্রহণ করবেন ।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল আছে কিনা ?
আপনি আপনার প্রতিষ্ঠান এর জন্য ব্যাংক থেকে ঋন তুলতে গেলেন, ব্যাংক আপনার কাছে তখন নানা রকম তথ্য জানতে চাইলো, কিসের ব্যবসা, কতো দিনের ব্যবসা, কার ব্যবসা, কি কি পণ্য আছে, কোথায় কোথায় পণ্য বিক্রি করা হয়? কারা ক্রেতা ইত্যাদি ইত্যাদি ? আপনি সবগুলো তথ্য ঠিক ঠাক সব তথ্য দিয়ে দিলেন । এবার চিন্তা করুন আপনাকে ব্যাংকার যে প্রশ্নগুলো করেছে , আপনার ঋন আবেদনদি পরবতীতে যার যার কাছে যাবে সবার মনেই কিন্তু একই প্রশ্ন দেখা দিবে এবং তারাও এসকল তথ্য জানতে চাইবে । কিন্তু আপনি কি সবার সামনে সব সময় উপস্থিত থাকবেন বা উপস্থিত হয়ে সব তথ্য প্রদান করতে পারবেন ? না পারবেন না আপনার হয়ে আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পকে সকল প্রশ্নে উত্তর প্রদান করবে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল তাই এ প্রফাইলটি আপনি যতো যত্ন দিয়ে তৈরী করবেন আপনার ঋন পাবার সম্ভবনায় ততো বাড়বে । আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রফাইল আপনার হয়ে সকল ব্যাংকারকে ব্যাংক ঋন এর পক্ষে কথা বলে যাবে প্রতিনিয়ত ।
ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা ?
ব্যাংক বিভিন্ন পেশা জীবিদের ( যেমন: চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত ইত্যাদি ) জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋন এর ব্যবস্থা করে থাকে । একজন ব্যবসায়ী হিসাবে আপনি যদি ব্যাংক ঋণ নিতে চান তাহলে আপনাকে প্রমান করতে হবে যে, আপনি একজন ব্যবসায়ী । একজন ভোটার যেমন তার ভোটার আইডি কাড ছাড়া ভোট দিতে পারেন না তেমনি একটি আপনার ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আপনি নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসাবে দাবী করতে পারবেন না, ট্রেড লাইসেন্স হলো একজন ব্যবসায়ীর পরিচয় পত্র । ব্যাংক তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী ঠিক করে থাকেন যে, তারা কত পুরনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঋন প্রদান করবেন, আর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর বয়স জানার মুল ডকুমেন্ট হলো ট্রেড লাইসেন্স । অনেক সময়ই দেখা যায় যে, একজন উদ্যোক্তা ব্যবসার শুরতেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স করেন না , কয়েক বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করার পর যখন ব্যাংক ঋন বা অন্য কোন প্রয়োজন হয় তখন তারা ট্রেড লাইসেন্স করেন, কিন্তু নতুন ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে আপনি তো কখনও প্রমান করতে পারবেন না যে, আপনার প্রতিষ্ঠানের বয়স কতো বা কতদিন ধরে আপনি আপনার ব্যবসা পরিচালনা করছেন । ফলে ব্যাংক চাইলেও আপনকে ঋণ দিতে পারবে না । তাই যেদিন আপনি ব্যবসা শুরু করবেন সেই দিনই আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড লাইসেন্স করে নিতে হবে ।
অন্যান্য দলিল পত্র আছে কিনা ?
একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে দেখে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র ( যেমন :কোম্পানীর রেজিষ্ট্রেশন, টিন, ভ্যাট সাটিফিকেট, দোকন ভাড়ার দলিল, অন্যান্য লাইসেন্স , বিএসটিআইএর অনুমোদন – আপনার ব্যবসার ধরন অনুযায়ী যেটা যেটা প্রযোজ্য ) প্রয়োজন সেই কাগজপত্র গুলো অবশ্যই আপনাকে তৈরী করতে হবে । ধরা যাক আপনি যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন তার থেকে আপনার বছরে আয় ৪ – ৫ লক্ষ টাকা, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই আপনি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিগত ট্যাক্স এর আওতায় পড়বেন এবং আপনাকে ট্যাক্স দিতে হবে । আবার ধরা যাক আপনি খাবার জাতীয় পণ্য বাজারজাত করেন, এক্ষেত্রেও নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে বিএসটিআই এর অনুমোদন নিতে হবে । এছারাও যেখানে যে কাগজ প্রয়োজন, যেখানে সেই কাগজ তৈরী করে রাখতে হবে । আপনি যখন ব্যাংকে ঋন এর জন্য আবেদন করবেন তখন ব্যাংক দেখতে চাইবে যে, আপনি আপনার ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কতটা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন বা বাংলাদেশের নিয়মের প্রতি আপনি শ্রদ্ধাশালী কিনা ? এ থেকেও ব্যাংক বুঝতে চাইবে যেম আপনি ব্যাংক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংক এর নিয়ম কানুন মেনে চলবেন কিনা ? এছাড়া এই কাগজপত্রগুলো ব্যাংক ঋণ এর আবেদনপত্রকে অনেক বেশি শক্তিশালী হিসাবে বিবেচনা করতে ব্যাংকে বাধ্য করবে ।
খাতা পত্রে দৈনিক ব্যবসার হিসাব সংরক্ষন করা হয় কিনা ?
আপনার ব্যাংক এর হিসাব বিবরনী থেকে দেখা গেল যে প্রতি মাসে আপনার ব্যাংক একাউন্টস এ ১ লক্ষ টাকা করে লেন দেন হয়েছে কিন্তু এটা কি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টাকা নাকি অন্য কোন সুত্র হকে টাকাটি এসেছে সেজন্য অনেক সময় ব্যাংক আপনার দৈনিক লেন দেন এর হিসাব দেখতে চাইতে পারে । সেজন্য দৈনিক যে পরিমান টাকাই লেন দেন হোক না কেন সেখা লিখিতভাবে সংরক্ষন করা অত্যান্ত জরুরী ।
ব্যবসার মালামাল – স্টক এর হিসাব নিয়োমিত রাখা হয় কিনা এবং নিয়মিতভাবে টা আপডেট করা হয় কিনা ?
আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্টক রেজিষ্টার দেখে আপনার ব্যবসার কতটাকার পণ্য আপনার স্টক এ আছে এবং কিপরিমান পন্য বেচা কেনা হয়েছে তার একটি ধারনা পাওয়া যায় । আপনার দৈনিক হিসাব বিবরনী এবং স্টক এর মধ্যে একটি মিল সব সময়ই থাকবে । আপনি যদি কোন কারনে এ দুটি নিয়মিতভাবে আপডেট না করেন তাহলে এ দুটি ডকুমেন্ট এর মধ্যে অমিল দেখা দিতে পারে । এই অমিল এর নানা রকম ব্যাখ্যা দার করানো যাবে । হতে পারে আপনি ব্যাংক ঋণ পাবার জন্য আপনি দৈনিক হিসাব বিবরনী বাড়িয়ে লিখেছেন, হতে পারে আপনার স্টক রেজিষ্টার বা দৈনিক হিসাব বিবরনী নিয়মতিভাবে আপডেট করেন না, ইত্যাদি ইত্যাদি । সেজন্য আপনার ব্যবসার সকল কাজ সততার সাথে করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে সকল ডকুমেন্ট আপডেট করা প্রয়োজন ।
পরিচয় পত্র আছে কিনা ( ভোটার /পাসপোট) ?
ব্যাংক এর একটি নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ দেবার জন্য বাংলাদেশের নাগরী এবং বিদেশী নাগরিকদের জন্য আলাদা আলাদা পলিসি এবং নিয়ম কানুন আছে । তাই আপনি কি বাংলাদেশের নাগরিক এটা প্রমান করবার জন্য আপনাকে হয় বাংলাদেশের ভোটার আইডি কাড, বাংলাদেশের পাসপোট অথবা এমন কোন ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে যেখান থেকে প্রমান হয় যে, আপনি বাংলাদেশের নাগরিক ।
স্থায়ী সম্পদের হিসাব ও আনুমানিক মূল্য ?
আপনার প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এর একটি তালিকা নিয়মিত আপডেট করতে হবে এবং যথাযথভাবে তা উপস্থাপন করতে হবে । ব্যাংকের কাছে এই ডকুমেন্টটি অনেক গুরুত্বপূন । তাই এই ডকুমেন্টটি তেরীর ক্ষেত্রে অভিÁদের সহযোগিতা নেয়া উচিত ।
বাজারে আপনার প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের সুনাম আছে কিনা ?
আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের সুনাম. আপনার প্রতিষ্ঠানের এক ধরনের সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হয় । তাই পণ্যের ব্যবসার শুরু থেকেই আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের সুনাম বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে । গুনগত মান নিয়ন্ত্রন, সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করা, ব্যবসায়ী লেন দেন এর ক্ষেত্রে কথা দিয়ে কথা রাখা, সময় মতো সব টাকা লেন দেন করা ইত্যাদি আপনার প্রতিষ্ঠান ও পন্যের সুনাম বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করবে ।
ব্যাংক এর নিয়ম অনুযায়ী ঋন দেবার সুযোগ আছে কিনা ?
আপনি যে ব্যাংক থেকে ঋন নিতে চাচ্ছেন সেই ব্যাংক কোন কোন ট্রেড মানে কোন কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঋন দিতে আগ্রহী এবং তাদের নিয়ম কানুন এর বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন । প্রত্যেক ব্যাংক এর কিছু নিজস্ব সিদ্ধান্ত থাকে এবং কিছু ট্রেড থাকে যাদেরকে ব্যাংক দিতে আগ্রহী থাকে । বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩২ টি ট্রেড ঠিক করেছেন এসএমই ঋণ দেবার জন্য আবার এই ১৩২ টি ট্রেড এর মধ্যে থেকে প্রত্যেকটি ব্যাংক তাদের পছন্দ মতো ট্রেড এর ঋন প্রদান করে থাকে । তাই আপনি যে ব্যাংক থেকে ঋন নিতে চাচ্ছেন সেই ব্যাংক এর তালিকায় আপনার ট্রেডটি আছে কিনা তা জেনে নেয়া অত্যান্ত জরুরী । এছাড়া ঋন এর সুদ, ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, ইত্যাদি ভালভাবে জেনে নেয়া প্রয়োজন ।

এছাড়াও ব্যাংক তার নিজস্ব নিয়ম মেনে ঋণ প্রদান করবেন । তবে উপরোক্ত বিষয়গুলো ঠিকমতো কাজে বাস্তবায়ন করলে আপনার প্রতিষ্ঠান এর জন্য ব্যাংক ঋণ পাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে ।

Written By
More from uddoktahub

ই-কমার্স বিজনেস কোম্পানি মডেল

ই-কমার্স বিজনেস  কোম্পানি মডেল প্রতিটা বিজনেসের মূলে থাকে কিছু প্ল্যান বা পরিকল্পনা...
বিস্তারিত পড়ুন...

Leave a Reply