বিএসটিআই গুণগত মান সনদ গ্রহণ পদ্ধতি

বিএসটিআই হতে সিএম লাইসেন্স (গুণগত মান সনদ) গ্রহণ/নবায়নের কার্য সম্পাদন পদ্ধতিঃ

১। সিএম লাইসেন্স গ্রহণ/নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিএসটিআই’র নির্ধারিত আবেদন ফরম (প্রতিটি পণ্যের জন্য) পূরণ পূর্বক নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রসহ দাখিল করতে হবেঃ

ক) হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত ফটোকপি।

খ) ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রেশন এর সত্যায়িত ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

গ) ভ্যাট (VAT) এবং হাল নাগাদ আয়কর পরিশোধের প্রত্যায়নপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।

ঘ) পণ্যে ব্যবহৃত মোড়ক/লেবেল (বাংলায়) যাহাতে নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি উল্লেখ থাকতে হবে।

(১) পণ্যের নাম ও ব্রান্ড (যদি থাকে

(২) গ্রেড/টাইপ/সাইজ/ভোল্টেজ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

(৩) ওজন/পরিমান/পরিমাপ

(৪) কোড/ব্যাচ নম্বর

(৫) পণ্যের উপাদানসমুহ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

(৬) উৎপাদনের তারিখ

(৭) মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ

(৮) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা।

(৯) সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য

(১০) সংশ্লিষ্ট বিডিএস নম্বরসহ গুণগত মান চিহ্ন (ঝঃধহফধৎফ গধৎশ)

(১১) উৎপাদক ও আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা (আমদানীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে)

(১২) প্যাকেটজাতকারী / বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা (প্যাকেটজাতকারী উৎপাদনকারী না হইলে)

(১৩) প্রিমিসেস লাইসেন্স (খাদ্য প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে)

ঙ) পরিবেশ ছাড়পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

চ) জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স (ইটভাটার ক্ষেত্রে)

ছ) ফ্লো শীট (উৎপাদনের সকল স্তর)

জ) কারখানার যন্ত্রপাতির তালিকা

ঝ) কারখানায় বিদ্যমান পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতির তালিকা

ঞ) পরীক্ষণ কাজে নিয়োজিত কেমিস্টের জীবন বৃত্তান্ত

ট) আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে এলসি, ইনভয়েস, বিল অব এন্ট্রি আইআরসি, তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার সনদ (গুড়া দুধসহ খাদ্য পণ্যের ক্ষেত্রে) এর সত্যায়িত ফটোকপি।

বিঃদ্রঃ সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্য প্রযোজ্য হইলে পণ্যের লেভেলে/ মোড়কে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

২। আবেদনকারী কর্তৃক দরখাস্ত ফি বাবদ প্রতিটি পণ্যের জন্য $ ১০০০/- (নতুন লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে) এবং $ ৫০০/- নবায়নের ক্ষেত্রে জমা প্রদান করতে হবে।

৩। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দরখাস্ত প্রাপ্তির পর তা যাচাই বাছাই করে সঠিক পাওয়া গেলে বিএসটিআই কর্তৃক কারখানা পরিদর্শন, নমুনা সীলকরণ ও পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রণয়ন।

৪। সীলকৃত নমুনা নির্ধারিত পরীক্ষণ ফি’সহ বিএসটিআই’র পরীক্ষাগারে অথবা বিএসটিআই’র নির্দেশিত পরীক্ষাগারে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জমাদান করতে হবে।

৫। উৎপাদিত/আমদানীকৃত পণ্যের গুণগত মান সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মান অনুযায়ী পরীক্ষায় সন্তোষজনক হইলে লাইসেন্স প্রদান/নবায়নের জন্য মার্কিং ফি ও লাইসেন্স ফি’র বিল পরিশোধের পর সিএম লাইসেন্স ইস্যু করা হয়।

ক) মার্কিং ফিঃ

(১) ফলজাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বাৎসরিক উৎপাদন মূল্যের (এঙ্ ফ্যাক্টরী প্রাইস) উপর $ ০.০৭% হারে (সর্বনিম্ন $১২৫০/- এবং সর্বোচ্চ $ ১০,০০,০০০/-)

(২) অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে বাৎসরিক উৎপাদন মূল্যের (এঙ্ ফ্যাক্টরী প্রাইস) উপর $ ০.১০% হারে (সর্বনিম্ন$১৮৭৫/- এবং সর্বোচ্চ $ ১৫,০০,০০০/-) লাইসেন্স ফি $ ২০০/- (বাৎসরিক)।

৬। সংশ্লিষ্ট বিডিএস অনুযায়ী পণ্যের নমুনা পরীক্ষা অকৃতকার্য হলে লাইসেন্স প্রদান/নবায়ন প্রত্যাখ্যান করা হয়। সে ক্ষেত্রে পণ্যের মান উন্নয়ন পূর্বক পুনরায় নমুনা সীলকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আবেদন করতে হবে এবং নিম্নমানের পণ্যের বাজারজাত ও বিক্রি করা হতে বিরত থাকতে হবে।

৭। লাইসেন্স প্রাপ্তির পূর্বে পণ্য/পণ্যসমুহ বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও আইনতঃ দন্ডনীয় অপরাধ।

৮। লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণের ৩ (তিন) মাস পূর্বে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হয়।

৯। আমদানীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে এলসি, ইনভয়েস, বিল অব এন্ট্রি, আমদানিকারক দেশ হতে পরীক্ষার প্রতিবেদন, বাংলাদেশ পরমানুশক্তি কমিশন হতে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার সনদ (গুড়া দুধ/খাদ্য পণ্যের ক্ষেত্রে) এবং ১। (ক) ও ১। (গ) কাগজ পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হয়।

১০। ভোজ্য তেল, চা, চিনি, আটা, ময়দা, সুজি ইত্যাদি প্যাকেজিং এর ক্ষেত্রে লেবেলে মূল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে এবং উৎপাদনকারী সঙ্গে প্যাকেজিং কোম্পানির চুক্তিনামার সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে হবে। খোলা বাজার হতে পণ্য ক্রয় করে রি-প্যাকেজিং এর ক্ষেত্রে “খোলাবাজার হতে সংগৃহীত ও প্যাকেটজাতকৃত” কথা লেবেলে স্পষ্ঠভাবে উল্লেখ করতে হবে।

Written By
More from uddoktahub

এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ERC) সংগ্রহ পদ্ধতি

বর্তমান সময়ে যে দেশ রপ্তানীতে যত এগিয়ে সে দেশ সমৃদ্ধিতেও তত এগিয়ে।...
বিস্তারিত পড়ুন...

Leave a Reply