খণ্ডকালীন ব্যবসাঃ বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে কলম বিক্রয়

স্বল্প পূঁজি নিয়ে খুচরা বিক্রয়

এ ব্যবসাটির জন্য প্রথমত আপনাকে সকল বৈধ উপার্জনপথের কাজকে সম্মান প্রদর্শ করতে পারতে হবে।আর দ্বিতীয়ত কাজে অটুট থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে হবে।আপনার শহরের বা উপজেলার সর্বাধিক শিখার্থী রয়েছে এমন তিন/চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মহাবিদ্যালয়) নির্বাচন করুন আপনার পণ্য বিক্রয়ক্ষেত্র হিসেবে। আপনার ক্ষেত্রের প্রাথমিক আয়তন হবে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০ হাজার পর্যন্ত বা কিছু কম। জেনে নিশ্চিৎ হয়ে নেবেন যে এইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন নাম-ধামের কলম কেনে এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে কোন কলম বিক্রয় হয় না।

পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ঃ আপনার ক্ষেত্রের কোন প্রতিষ্ঠানের নাম লিখে (কলমের গায়ে অন্য কোন নাম-ধাম থাকবে না) কলম বানিয়ে দেওয়ার ফরমায়েশ করবেন কোন পেশাদার কারখানায় গিয়ে। একই নামে হাজার দুয়েক কলম ফরমায়েসে প্রতিটির দাম ৩ থেকে ৩.৫ টাকায় চলে আসবে। কোনভাবেই কালি, কলম, মুদ্রণ মান খারাপ কিছু নেবেন না সামান্য দাম কমানোর জন্য। “স্ক্রীন প্রিন্ট” নেবেন না, খরচ কমলেও এই মুদ্রণ স্থায়ীত্ব পায় না। ম্যাটাডর-ধরনের কলমগুলো আপনি বিক্রয় করবেন ৫ টাকা দরে। এর সাথে সাধারণত কোন মোড়ক দেওয়া হবে না। আপনার ব্যাগে রেখেই বিক্রয় করতে হবে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার কলম তোইরিতে আপনার বিনিয়োগ হবে ২১ হাজার টাকা।

বাজারঃ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে কলম যদি লেখার মান ভালো দেয় তবে অন্য কলম কেন নেবে শিক্ষার্থীরা?আপনি বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সপ্তাহে কয়টি কলম ক্রয় করতেন? ডানপিটে না হলেও অন্তত মাসে দুইটি? সে হিসেবে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাসে দুইটি না হোক একটিওযদি নেয় তবে আপনার মাসিক পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণ ৮-১০ হজারটি কলম। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন একেকটি প্রতিষ্ঠানে (শনি-মঙ্গল, রবি-বুধ, সোম-বৃহস্পতি) ছুটির সময় বা মধ্য বিরতির সময় বা প্রভাতী-দিবা শাখার মাঝের সময়টিতে দু’ঘন্টা করে সময় দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা জিজ্ঞাসা করলে জানিয়ে দেবেন আপনার কলম বিক্রয়ের সময় ও বার। এতে মাস খানেকের মাঝেই আপনি পুরো হিসাবটা পেয়ে যাবেন যে ঐ বিদ্যালয়ে আপনার মাসিক বিক্রয়সীমা কেমন হতে পারে। এরপর সপ্তাহে একদিন করে একেকটি বিদ্যালয়ে আপনি তা বিক্রয় করতে পারেন। এ পণ্যটি পচনশীল নয় এবং দাম কমে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বলে অন্যান্য অনেক অবস্থাই আপনার ভাবতে হবে না।

লাভঃ মাসে ১০ হাজার কলম বিক্রয়ে আপনার লাভ হবে {১০,০০০-(৫-৩.৫)} অর্থাৎ ১৫,০০০ টাকা।২৬ দিনে আপনার যাতায়ত খরচ প্রতিদিন ১০০ করে হিসেবে ২,৬০০ টাকা।কলম সংগ্রহ ও অন্যান্য খরচ ৪০০ টাকা।চূড়ান্ত লভ্যাংশ = ১২,০০০ টাকা।

দ্রষ্টব্যঃ# প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আপনার প্রয়োজন বলে জানিয়ে নেবেন। এতেঝামেলা নেই বরংচ তাদের সহায়তা পাবেন।# ৪০০ টাকা খরচ করে ১০০০টি ঠিকুজিপত্র (visiting card) করে নিতে পারেন। আপনার নাম, মুঠোফোন নম্বর, কবে কোথায় আপনাকে পাওয়া যাবে তার সময় প্রভৃতি শিক্ষকদের ও অন্যান্য অনেককে দিতে পারেন। তাদের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক প্রয়োজনে তারা আপনাকে ডাকবেন কলম পাওয়ার জন্য।# কথা দিয়ে কথা রাখবেন আর প্রদত্ত মুঠোফোনটি সবসময় সচল রাখবেন।

অধিক পূঁজি নিয়ে পাইকারি বিক্রয়

এ ক্ষেত্রে আপনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এক বা একাধিক লাইব্রেরিগুলোতে আপনার কলম সরবরাহ করবেন। প্রতি ১০টি কলম ৩৫ টাকায় সংগ্রহ করে ৪০ টাকায় দেবেন। তারা ৫০ টাকায় বিক্রয় করবে। কোনও রকম বাকী দেবেন না। আপনার পূঁজি, সময়, সামর্থ্য হিসেব করে পাইকারি ব্যবসাও শুরু করতে পারেন। বিশ্বস্ত একজন ব্যবসায়িক সঙ্গী নিয়েও এটি করতে পারেন।

Written By
More from uddoktahub

ব্যবসা যখন মৎস্য চাষ

ভূমিকা : গ্রামের অনেক নারী শাক-সবজির পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে। মৎস্য চাষ ছোট...
বিস্তারিত পড়ুন...

Leave a Reply